মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

ভাষা ও সংস্কৃতি

ভাষাঃ ভাষা হল মানুষের মনের ভাব প্রকাশের মূখ নিঃসৃত সুশংখল ধ্বণি সমষ্টি এবং একটি  প্রবাহমান প্রক্রিয়া ।এই ভাষার শব্দগুলি সৃষ্টি হয় মানুষের পরিবেশের মধ্য অবস্থিত দৃশ্যমান প্রয়োজনীয় ও অবস্থাগত কারনে ।কাউনিয়া উপজেলার ভাষা মানেই রংপুরের ভাষা ।  স্থানীয় লোক সবাই রংপুরের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে।  এঅঞ্চলের ভাষায় ব্যবহৃত শব্দাবলির মধ্যে উল্লেখ যোগ্য শব্দ হচ্ছে বাহে ।

 

সংস্কৃতিঃ স্থানীয়ভাবে কাউনিয়া উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় বহু অতিত থেকেই নানা ভাবে সংস্কৃতির চর্চা ও লালন করা হলেও জাতীয় পর্যায়ে আমরা এখনও আমাদের সাহিত্যেও পুপাপুরিভাবে পৌছাতে পারিরি । অতিতকাল থেকেই এখানে পাড়ায় পাড়ায় রাতের বেলায় পুথিঁ পাঠের আসর, কবি গানের আসর, পালা গানের আসর বা মজমা বসতো । এসব আসর বসতো দেওয়ানির বাড়ীর উঠানে বা টঙ্গের উপর । টঙ্গ হলো বাঁশ নির্মিত মাচাং । এই টঙ্গে বসেই দেওয়ানির বাড়ীতে গ্রাম্য শালিশ বসতো, গ্রাম্য রাজনীতির তৎপরতা, আলাপ আলোচনা, দলাদলি, মারামারি, মামলা মোকদ্দমার শালা পরামর্শ হতো । জমিদারের বাড়ীতে, গ্রাম্য প্রভাবশালী মাতার্ব্বদের তৎপরতায় গঙ্গে, হাটে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে ব্যবস্থা করা হতো যাএাগান প্রদশনী । যাএা  আসতো কলিকাতা, কোচবিহার, খুলনা, কুষ্টিয়া, যশোর, বদরগঙ্গ, শ্যামপুর থেকে । যাএা গানের প্রদশনী ছিল এক শ্রেণীর মানুসের একমাএ পেশা । মাঝে মাঝে প্রদর্শনির জন্য নিয়ে আসাহতো সার্কস দল । আর আসতো ম্যাজিসিয়ান ম্যাজিক দেখাতে , যাদুর খেলায় মাতিয়ে তুলতো । কোন কোন সময় নাম করা গায়ক ও নায়কেরা এসে এখানকার মঞ্চে গান গাইতো , অভিনয় করতো । বানোরের খেলা, ভাল্লুকের খেলা, সাপের খেলা, দেখাতেও আসতো বেদের দল । তাদের মুখথেকে আভিশাপের বাণী বের হতো-

খা, খা, খা, বখখিলারে খা,

কৃপিণের খা,

খেলা দেখি যায় পাইসা না দেয়

তার নানীরে খা ।

এই বলে বাঁশী বাজিয়ে, বেহুলা লখিন্দারের গান গাইতে সাপের খেলা খেলাতো বেদেনীর দল ।

এখানকার শিখিত তরুণেরা , দল বেঁধে পাড়ায় লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা বা নৈশ বিদ্যালয় গড়ি তুলতো । হারাগাছের প্রাচীর সংঘ ইয়ংম্যানস এসোসিয়েশন, তমদ্দুন মজলিশ, তরুণ সংঘ, যুব সংঘ, চলস্তিকা সংসদ, উপজেলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদগুলি ছিল কর্মতৎপর ও জনপ্রিয়তা অর্জনকারী ক্লাব বা সংঘ । কেরোসিনের কুপি জ্বালিয়ে বড়দের, বৃদ্ধদের পড়া-শেখাতো তরুণ শিক্ষকেরা । এসব লাইব্রেরী বা নৈশ বিদ্যালয় গড়ে তোলা হতো কোন মক্তবের ঘরে বা কোন দেওয়ানীর বাড়ীর খানকা ঘরে । লাইব্রেরী কিংবা নৈশ বিদ্যালয় বানাতো, নাটকের মহড়া হতো ।

কাউনিয়া হারাগাছ এলাকায় অতীত কাল থেকেই অনেক ভালো ও নামকরা গায়ক ছিলেন । সুযোগ সুবিধার অভাবে জাতীয়ভাবে তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটেনি । এরা হলেন হারাগাছের গায়ক আকবর, আঃবারী, তছলিম উদ্দিন, ওবায়েত সরকার, মফিজ গীদাল ও আরও অনেকে । কুর্শার ছপর উদ্দিন বয়াতী, মকবুল উদ্দিন বয়াতী, খোপাতীর কেরামত আলী বয়াতী ও মমতাজ আলী বয়াতী । হারাগাছের নবীনযোগী ও তার দল নাম করা গায়ক ছিলেন । এরা বাংলাদেশ বেতারেরও শিল্পী  ছিলেন । মহিলাদের মধ্যে হারাগাছের মনোয়ারা বেগম, মনোয়ারা পাভিন, নাদিরা বেগম টেলিভিশনের সংগীত শিল্পী ছিলেন । মনোয়ারা পারভিন, এখনও সংগীত চর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন । কুর্শার সংগীত শিল্পী মালতী রানী, কাউনিয়ার বিখ্যাত পল্লী গীতির গায়ক কছিমুদ্দিনের কন্যা নাছিমা বেগম লাকী, হরিশ্বর মৌজার ছফর বয়াতীর কন্যা রহিমা বেগম বাংলাদেশ বেতারের শিল্পী । তারা এখনও তাদের সংগীত চর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন । খোপাতীর রেডিও শিল্পী কেরামত আলী বয়াতী একজন ভালো সরোজ বাদকও ছিলেন ।